আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চলমান গুমের সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, অতীতে ভিন্নমতাবলম্বী ও রাজনৈতিক কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনাগুলো ছিল এক চরম মানবিক সংকট। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও যথাযথ বিচার দাবি করেন।
মামুনুল হক স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে শুধু অতীতের ঘটনার বিচারই যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারে, সেজন্য শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োজন। তিনি প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে বলেন, তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে হবে। আইনটি যেন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতিশোধের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।
পরিশেষে, মামুনুল হক আইনের শাসনের গুরুত্বারোপ করে বলেন, গুমের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকবে না। প্রতিটি নাগরিকের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা আনয়নই হোক আগামীর লক্ষ্য। তিনি সব ধরনের রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসানের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।