রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার ছয় মাসের মাথায় বিএনপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র আকার ছোট করে সেগুলোকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার বিষয়ে কাজ করছেন। আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি, যেখানে গঠনতন্ত্রেও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা বিভিন্ন পদের আধিক্য কমিয়ে দায়িত্বভিত্তিক ও সময়োপযোগী কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দলের শীর্ষ পর্যায় এবং সরকারের দায়িত্বের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-মহানগর কমিটিগুলো পুনর্গঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ কাউন্সিল অনুষ্ঠানের প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এবারের কাউন্সিলে প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, যাতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করা যায়। তবে গঠনতন্ত্রের সম্ভাব্য পরিবর্তন ও নেতৃত্বের রদবদল নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি দলটির শীর্ষ ফোরাম।