সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গৃহহারা মানুষের জন্য আবাসন সহায়তার পাশাপাশি কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশু খামারিদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা হলো- ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনতা’। সেই নীতিকে সামনে রেখেই সরকার দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, উপক‚লীয় অঞ্চলে বারবার বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমাতে শক্তিশালী স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্লুইসগেটগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বক্তব্য দেন। প্রথম পর্যায়ে পেকুয়ায় বন্যায় গৃহহারা ২০টি পরিবারের হাতে টিন, খাট, লেপ-তোশকসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে আরও ৮০টি পরিবারকে একই ধরনের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে দিনব্যাপী পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি মেহেরনামা, শিলখালী, বারবাকিয়া বাজার, টইটং ও রাজাখালী এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে উজানটিয়ার সোনালী বাজার স্লুইসগেট এবং মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিয়ে তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এসব এলাকায় দেরিতে যাওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় ভাষায় ক্ষমাও চান।