ভারত ও চীন—এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে নেপালের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা দেশটির পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সম্প্রতি কাঠমান্ডুতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করেছেন যে, তার দেশ কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের পক্ষ নিতে আগ্রহী নয়। তিনি রূপক অর্থে বলেন, একজন মানুষের জীবনে মা ও বাবা উভয়েরই যেমন অপরিহার্য অবস্থান থাকে, নেপালের ক্ষেত্রেও চীন ও ভারত ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একপক্ষকে বাদ দিয়ে অন্যপক্ষকে বেছে নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
নেপালের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারত ও নেপালের মধ্যকার সীমান্ত নিয়ে যে উত্তেজনার কথা শোনা যায়, তা বাস্তবে যতটা প্রচার করা হয় ততটা গুরুতর নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মাঝে উন্মুক্ত সীমান্ত থাকার কারণে মানুষ খুব সহজে যাতায়াত করতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে একটি বিরল উদাহরণ। নেপাল আবেগের পাশাপাশি যুক্তিনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের মাধ্যমেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।