রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জনসেবা নিশ্চিত করতে কর আহরণ অপরিহার্য হলেও, সাম্প্রতিক আয়কর আইন ও অর্থ আইনের সংশোধন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, টার্নওভার কর বা গ্রস রিসিটের ওপর ধার্য করা করের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। আইনের এই ধারায় ব্যবসার প্রকৃত লাভ বা ক্ষতির হিসাব বিবেচনা না করেই মোট লেনদেনের ওপর কর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কর ফাঁকি রোধে প্রশাসনের জন্য কার্যকর মনে হলেও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানই সীমিত মুনাফায় বা লোকসানে পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত মুনাফা যাচাই না করে কেবল টার্নওভারের ভিত্তিতে কর আরোপ করা হলে ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের মূলধন হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে যে ব্যবসাগুলোতে মুনাফার হার খুবই কম, সেখানে এই করের বোঝা ব্যবসার অস্তিত্বের জন্যই হুমকিস্বরূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে গিয়ে যেন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা নষ্ট না হয়, সেদিকে নীতিনির্ধারকদের নজর দেওয়া জরুরি।
এই সংকট নিরসনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য বিশেষ রেয়াত বা কর পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ ও স্বচ্ছ অডিট প্রক্রিয়া জোরদার করা গেলে প্রকৃত আয় নিরূপণ সহজ হবে এবং টার্নওভার করের মতো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে। পরিশেষে, রাজস্ব সুরক্ষার চেয়েও বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি ভারসাম্যপূর্ণ করনীতি প্রতিষ্ঠা করা, যা সরকারকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে উৎসাহিত করবে।