সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই রহস্য উন্মোচনে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি ভিন্ন মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হঠাৎ করেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ ক্লু বেরিয়ে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বরখাস্ত কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্পর্শকাতর সরকারি নথিপত্র বা বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কিত কোনো গোপন ডিজিটাল তথ্য থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
তদন্তকারী প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে, যা আগে কখনোই সামনে আসেনি। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে, ঘটনার পূর্বেই তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মামলার গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য ও ক্লুগুলো পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও, নতুন এই তথ্য মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।