আওয়ামী লীগ শাসনামলে ঘটে যাওয়া গুমের সব ঘটনার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) করবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিচ্ছিন্ন বা একক কোনো গুমের ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেগুলোর বিচার প্রচলিত ফৌজদারি আদালতেই অনুষ্ঠিত হবে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ীই এই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
তবে কোনো গুমের ঘটনা যদি সুপরিকল্পিতভাবে বা বিস্তৃত পরিসরে (সিস্টেম্যাটিক ও ওয়াইড স্প্রেড) সংঘটিত হয়, তবেই কেবল তা মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, ইলিয়াস আলী বা সালাউদ্দিন আহমদের মতো হাইপ্রোফাইল গুমের ঘটনাগুলোকে ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এছাড়া বর্তমানে প্রায় ২৫০ জনের গুমের ঘটনা নিয়ে সম্মিলিত তদন্ত চলছে, যা সুসংগঠিত অপরাধের আওতাভুক্ত হওয়ায় সেগুলোর বিচার আইসিটিতেই হবে বলে জানান তিনি।
ক্রসফায়ারের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যদি কোনো ক্রসফায়ার পরিকল্পিত বা বিস্তৃত অপরাধের অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে তার বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। টেকনাফ কাউন্সিলর একরামুল হকের মামলাটি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমানে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল হাসান এবং ব্যারিস্টার আরমানসহ অন্যান্য গুমের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।