গুমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ৬১ দিন বন্দিদশায় কাটানোর সময় প্রতিটি মুহূর্ত তিনি মৃত্যুর প্রহর গুনতেন। একটি অন্ধকার ও কবরের মতো সংকীর্ণ প্রকোষ্ঠে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল, যেখানে দমবন্ধ করা পরিবেশের পাশাপাশি ছিল অস্বাস্থ্যকর অবস্থা ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব। শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত ছিলেন তিনি। বন্দিদশার এক পর্যায়ে তীব্র অসুস্থতা অনুভব করলে মৃত্যুপথযাত্রী সালাহউদ্দিন তার গুমকারীদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তার মৃত্যু হলে অন্তত মরদেহটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ দুই মাস পর চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে ভারতের শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। অবর্ণনীয় শারীরিক কষ্টে থাকা সালাহউদ্দিনকে দেখে পথচারী ও স্থানীয় পুলিশ শুরুতে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ভেবে ভুল করেছিল। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকের সহায়তায় পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হলে তিনি নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন। ভারতের শিলংয়ে উদ্ধার হওয়ার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় দিয়ে বেঁচে থাকার বার্তাটি বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া ছিল তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা।
জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরতে পারাটা তার জন্য এক নতুন জীবনের সুযোগ। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে অবদান রাখা সকল মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে দেশে আর কখনোই গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।