ডেস্ক রিপোর্ট: হ্যালোউইনের ভৌতিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাদের সূর্যও একদিন মৃত্যুর পর অদ্ভুত সবুজ আলো ছড়াতে পারে। তবে এর জন্য সূর্যকে এক প্রকার মহাজাগতিক জম্বি বা নরখাদকে পরিণত হতে হবে। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তখন তাকে নিজের চারপাশের পাথুরে গ্রহগুলোকে গিলে খেতে হবে। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে এক গবেষণায় এই রোমাঞ্চকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানতেন নক্ষত্রের রং মূলত তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে এবং সেগুলো সাধারণত কমলা, সাদা বা হালকা নীল হয়ে থাকে। কিন্তু নক্ষত্র যখন আয়ু শেষ করে শ্বেত বামন বা হোয়াইট ডার্ফে পরিণত হয়, তখন তাদের ভেতরের রসায়ন পুরোপুরি বদলে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মৃত শ্বেত বামন নক্ষত্র তাদের প্রচণ্ড মহাকর্ষ বলের টানে কাছে চলে আসা গ্রহ বা গ্রহাণুকে দুমড়েমুচড়ে ধুলোয় পরিণত করে গ্রাস করে। এই পাথুরে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, লিথিয়াম কিংবা আয়রনের মতো ভারী উপাদানগুলো নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে মিশে এক অদ্ভুত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। আর এই বিশেষ বিক্রিয়ার ফলেই মৃত শ্বেত বামন নক্ষত্র থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সবুজ, গোলাপি, হলুদ কিংবা বেগুনি রঙের দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা এই পুরো ঘটনাটিকে একটি মহাজাগতিক ক্রাইম সিন হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে মৃত নক্ষত্রটি এককালের জীবন্ত কোনো গ্রহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নক্ষত্র থেকে নির্গত এই রঙিন আলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীরা গ্রাস হওয়া গ্রহটির ভেতরের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হচ্ছেন।
আমাদের পৃথিবী থেকে মাত্র ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে এমন একটি সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যার বায়ুমণ্ডলে সোডিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মাত্রাতিরিক্ত প্রাচুর্য রয়েছে। সম্প্রতি এই আবিষ্কারের পর মহাকাশ বিজ্ঞানজগতে নতুন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং বিজ্ঞানীরা এটিকে এক অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে আরও উন্নত স্পেকট্রোস্কোপিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে গবেষকদের। এই ধারাবাহিক গবেষণার হাত ধরে মহাবিশ্বের বুক থেকে আরও অনেক নতুন সবুজ, গোলাপি ও রঙিন নক্ষত্রের অজানা রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।