August 27, 2026, 2:34 am
সর্বশেষ সংবাদ:

যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হ/ত্যা : গোপালগঞ্জ থেকে ‘অন্যতম আসামি’ গ্রেপ্তার

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, August 27, 2026
  • 24 Time View

যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন (২৯) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি গোলাম রসুলকে (৩০) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরের দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার পুইশুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুইশুর এলাকায় বাসু সিকদারের বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরের স্বর্ণপট্টিতে নিজ দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হন পূর্ব বারান্দীপাড়া, মাঠপাড়ার বাসিন্দা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন।

পরে পূর্ব বারান্দীপাড়া লিচুতলা মাদরাসার পেছনে বাবুর মেহগনি বাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পিবিআই যশোর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই জানতে পারে, আল-আমিনের সঙ্গে গোলাম রসুলসহ কয়েকজনের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

ওই বিরোধের জেরেই আল-আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে গোলাম রসুল ও তার সহযোগীরা মোবাইল ফোনে একাধিকবার আল-আমিনকে কল করে লিচুতলা মাদরাসার পেছনের মেহগনি বাগানে ডেকে নেন। সেখানে তাকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে এবং ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আল-আমিনের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম রসুল জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর গোলাম রসুল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।

পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই। এরপর বুধবার ভোরের দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার পুইশুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুইশুর এলাকায় বাসু সিকদারের বসতঘর থেকে গোলাম রসুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ জানান, গ্রেপ্তারের পর গোলাম রসুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যা কাণ্ডের বিষয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পিবিআই যশোর জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, আল-আমিনের সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামিসহ অন্যদের বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার গোলাম রসুলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com