রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রতি এবং রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
এ ছাড়া তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসব জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ জন কর্মী মারা গিয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা যায়। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন।
নিহত জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা। অন্যান্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া মেহেরপুরের গাংনীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, আনুমানিক ৩৫ জন বাংলাদেশি কর্মী এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
এদের মধ্যে ৬ জন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন। এ ৬ জনসহ গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কোতে নিয়ে আসা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এ ছাড়া দূতাবাস ইতোমধ্যে একটি হটলাইন টেলিফোন নম্বর চালু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাস নিহত বাংলাদেশি নাগরিক জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
দূতাবাস তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের প্রতি এবং রাশিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।