February 27, 2026, 5:36 am

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে শক্ত অবস্থান বাংলাদেশের

Reporter Name
  • Update Time : Friday, February 27, 2026
  • 22 Time View
যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারে ২০২৫ সালে সামগ্রিক মন্দা বিরাজ করলেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশ তার অবস্থান আরও দৃঢ় ও সুসংহত করেছে।

অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৭.৮৮ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১.৭৪ শতাংশ কম।

 

পরিমাণের দিক থেকে স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট (এসএমই) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৩.৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে গড় ইউনিট মূল্য ২.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা চাহিদা কমে যাওয়ার মধ্যেও মূল্য চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।

সামগ্রিক বাজার মন্দার বিপরীতে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.২০ বিলিয়ন ডলারে, যা এ পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক রেকর্ড। এটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ের তুলনায় ১১.৭১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

 

শুধু ডিসেম্বর ২০২৫ মাসেই বাংলাদেশ থেকে আমদানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩.৩৩ শতাংশ বেড়েছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব দাঁড়িয়েছে ১০.৫৩ শতাংশ, যা আমেরিকান ক্রেতাদের জন্য অন্যতম শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

২০২৫ সালে মার্কিন বাজারে অন্যান্য প্রধান সরবরাহকারীদের মধ্যে ভিয়েতনামের অংশ ছিল ২১.৫০ শতাংশ এবং চীনের ১৩.৬৬ শতাংশ। এছাড়া ভারতের ৬.৩৫ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ৬.২০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫.৯৮ শতাংশ।

 

চীন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে ক্রমেই অবস্থান হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম মূল্য প্রবৃদ্ধি, ইউনিট, মূল্য পরিবর্তন এবং পরিমাণগত পারফরম্যান্সে প্রায় একই ধারা প্রদর্শন করেছে। তবে ভিয়েতনাম এখনও সামগ্রিকভাবে অনেক বড় বাজার অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে।

তথ্যে আরও দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে মার্কিন পোশাক বাজারের প্রবৃদ্ধি ছিল দুর্বল। বছরের শেষ তিন মাসে পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং ভোক্তাদের কম চাহিদার কারণে আমদানি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল।

এমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের শক্তিশালী রপ্তানি পারফরম্যান্স, বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহ চেইনে দেশটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

 

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পারস্পরিক শুল্ক এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের অনিশ্চিত পরিবেশেও বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে ভালো করেছে।

তিনি বলেন, ‘চীন স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে অবস্থান হারাচ্ছে, আর বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম মূল্য, ইউনিট মূল্য এবং পরিমাণ বৃদ্ধিতে একই ধারা দেখাচ্ছে, যদিও ভিয়েতনাম এখনও অনেক বড় অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে।’

রুবেল আরো উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ক্রেতাদের আস্থা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকেই প্রতিফলিত করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com