নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালে ১৫৭ জন এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে দুই অঞ্চল মিলিয়ে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিখোঁজদের সন্ধানে জোরদার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের কোনো হদিস মিলছে না। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা রয়েছেন। এছাড়া দুর্যোগে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাসুয়া জেলার মতো পার্বত্য এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এবং পানির প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো অবতরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল সরকার ভারত ও চীনের কাছে সহায়তা চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্গতদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ তৎপরতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ২৬৫ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা যাচাই করতে কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।