July 1, 2026, 3:02 am
সর্বশেষ সংবাদ:
ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই অভ্যুত্থানে: রিজভী বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা স্বাধীনতার বিরোধিতার দায়ে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হবে ব্যাংকিং খাত: জামায়াত এমপি জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানকে আলাদা করার সুযোগ নেই: আখতার হোসেন

ট্রাম্পকে ‘বিবেক নাড়া দেওয়ার মতো’ কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন শি

Reporter Name
  • Update Time : Friday, May 15, 2026
  • 45 Time View
47

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শি বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেন ট্রাম্পকে।

শি বলেন, “গত এক শতাব্দীতে এত দ্রুত এমন বৈশ্বিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হতে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন অস্থির ও অশান্ত।’

ট্রাম্পকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডিডিস ফাঁদ অতিক্রম করে বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীলতা দিতে পারব? দুই দেশের জনগণের কল্যাণ এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে কি আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব? এগুলোই ইতিহাস, বিশ্ব ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, এগুলো এমন প্রশ্ন যার উত্তর বড় দেশগুলোর নেতাদের একসঙ্গে দিতে হবে।

শি বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার অপেক্ষায় আছি, যাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশাল জাহাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা যায় এবং ২০২৬ সালকে একটি ঐতিহাসিক ও মাইলফলকপূর্ণ বছরে পরিণত করা যায়, যা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে একমত হয়েছি।”

শির মতে, এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আগামী তিন বছর ও তার পরবর্তী সময়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেবে এবং এটি দুই দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বাগতযোগ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “এই ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ এমন একটি ইতিবাচক স্থিতিশীলতা হওয়া উচিত যেখানে সহযোগিতা হবে মূল ভিত্তি; এমন একটি সুস্থ স্থিতিশীলতা যেখানে প্রতিযোগিতা হবে সীমিত; এমন একটি স্থায়ী স্থিতিশীলতা যেখানে মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকবে; এবং এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা যা শান্তির প্রতিশ্রুতি বহন করবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সম্পর্ক গঠন শুধু স্লোগান নয়, বরং উভয় পক্ষের একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ হওয়া উচিত।

শি বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক পারস্পরিক লাভজনক ও উভয় পক্ষের জন্য জয়-জয় পরিস্থিতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “যেখানে মতবিরোধ ও উত্তেজনা রয়েছে, সেখানে সমতার ভিত্তিতে আলোচনা-ই একমাত্র সঠিক পথ।”

শি জানান, বুধবার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দল “সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফলাফল” অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, “এটি দুই দেশের জনগণ এবং বিশ্বের জন্য সুসংবাদ,” এবং উভয় পক্ষকে ইতিবাচক অগ্রগতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

চীন আরও বেশি উন্মুক্ত হবে উল্লেখ করে শি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো চীনের সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় গভীরভাবে জড়িত, এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য স্বাগত জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, “উভয় পক্ষের উচিত রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের চ্যানেলগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।”

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের উচিত অর্থনীতি ও বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, কৃষি, পর্যটন, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক এবং আইন প্রয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।

তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি জোর দিয়ে বলেন, এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, যদি এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকবে। অন্যথায় দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ এমনকি দ্বন্দ্বও দেখা দিতে পারে, যা পুরো সম্পর্ককে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান ইস্যু পরিচালনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

শি বলেন, প্রণালিপার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিন্ন স্বার্থ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তাইওয়ানের স্বাধীনতা” এবং প্রণালিপার শান্তি আগুন ও পানির মতো একে অপরের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

ট্রাম্প বলেন, চীন সফর করা তার জন্য “বড় সম্মানের বিষয়” এবং তিনি শিকে “একজন মহান নেতা” ও চীনকে “একটি মহান দেশ” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট শি এবং চীনা জনগণের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”

ট্রাম্প বলেন, তিনি শির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করতে, মতপার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী দেশ, এবং দুই প্রেসিডেন্ট একসঙ্গে “দুই দেশ ও বিশ্বের জন্য অনেক বড় ও ভালো কাজ করতে পারেন।”

ট্রাম্প মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের চীনের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উৎসাহিত করেন।

দুই প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইউক্রেন সংকট এবং কোরীয় উপদ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

তারা এ বছর সফলভাবে এপেক অর্থনৈতিক নেতাদের বৈঠক এবং জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে একে অপরকে সমর্থন করার বিষয়েও একমত হন।

সূত্র: সিনহুয়া

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com